নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে বরং ভুল ওষুধের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বহু ষড়যন্ত্র ও ট্র্যাজেডি দেখেছে এ দেশের মানুষ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ১৯৯০-এর প্রতিটি বাঁক বদলে ছিল নেতৃত্বের ওপর আঘাত। ১৯৫৫ সালে রাজনীতিতে আসা এবং ১৯৮০-র দশকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের এই অধ্যায়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো তিলক হিসেবে যুক্ত হলো। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার চিরবিদায়ের পর ২০২৫ সাল জুড়েই চলেছে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমানে ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশবাসী এখন সত্যের মুখোমুখি।
অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তার বক্তব্যে একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কিনা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, তার আর্থ্রাইটিসের জন্য দেওয়া ‘মেথোট্রেক্সেট’ (Methotrexate) ট্যাবলেটটিই তার লিভারের জন্য স্লো পয়জন হিসেবে কাজ করেছে।”
তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল যখন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন তারা অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন যে তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ এর আগে সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাপত্রে তাকে মেথোট্রেক্সেট সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা ফ্যাটি লিভার বা লিভারের সমস্যা থাকলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধানের মতে, লিভারের অসুস্থতা নির্ণয় করা কোনো কঠিন কাজ ছিল না। মেথোট্রেক্সেট সেবনের সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তৎকালীন সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকেরা লিভার ফাংশন টেস্টের ফলাফল খারাপ দেখার পরেও কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম করেননি এবং ক্ষতিকর ওই ওষুধটিও বন্ধ করেননি।
অধ্যাপক সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন:
“ম্যাডামের ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
এই সুচিকিৎসার অভাব ও অবহেলার দায়ভার নির্ধারণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন অধ্যাপক সিদ্দিকী। তদন্তের প্রধান তিনটি দিক হবে: ১. সাবেক সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই। ২. চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করা হয়নি। ৩. কেন আইনজীবীর মাধ্যমে বারবার আবেদন করার পরেও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৫-এর সংস্কারমুখী বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। শোকসভায় বক্তারা বলেন, সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা এই নেত্রী যদি ২০২৬ সালের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখে যেতে পারতেন, তবে সেটি হতো জাতির জন্য বড় পাওয়া।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, মেডিকেল বোর্ড প্রেস ব্রিফিং এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন।
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |